<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>কবিতা .... কবিতা .... কবিতা &#187; বিশ্ব সাহিত্য</title>
	<atom:link href="http://www.rashal.com/blog/?feed=rss2&#038;cat=1" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://www.rashal.com/blog</link>
	<description>এসো মিলি কবিতার মিলন মেলায়</description>
	<lastBuildDate>Tue, 31 Aug 2010 10:08:59 +0000</lastBuildDate>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<generator>http://wordpress.org/?v=3.0.1</generator>
		<item>
		<title>পুশকিন: রুশ সাহিত্যের সম্রাট -হায়াৎ মামুদ</title>
		<link>http://www.rashal.com/blog/?p=247</link>
		<comments>http://www.rashal.com/blog/?p=247#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 03 Nov 2009 17:57:03 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিশ্ব সাহিত্য]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.rashal.com/blog/?p=247</guid>
		<description><![CDATA[রুশ সাহিত্যে পুশকিনের আসনের সঙ্গে তুলনীয় ইংরেজি সাহিত্যে শেক্সপীয়র, জর্মন সাহিত্যে গোয়টে ও বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের আসন। কথাসাহিত্যিক ও সমালেচক ভ্লাদিমির নাবোকভ বলেছেন, সব কটি রুশ সম্রাটের রাজত্বকাল মেলালেও পুশকিনের কবিতার একটি পঙক্তিরও যোগ্য হবে না। মাত্র আটত্রিশ বৎসর আয়ুষ্কালে তিনি রুশ ভাষা ও সাহিত্যে একাধারে আধুনিক কাব্যভাষা, বাস্তববাদ, গদ্যকাহিনী, ট্রাজেডি, কাব্যনাট্য প্রভৃতির জনক হিসেবে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><span style="font-size: 130%;">রুশ সাহিত্যে পুশকিনের আসনের সঙ্গে তুলনীয় ইংরেজি সাহিত্যে শেক্সপীয়র, জর্মন সাহিত্যে গোয়টে ও বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের আসন। কথাসাহিত্যিক ও সমালেচক ভ্লাদিমির নাবোকভ বলেছেন, সব কটি রুশ সম্রাটের রাজত্বকাল মেলালেও পুশকিনের কবিতার একটি পঙক্তিরও যোগ্য হবে না। মাত্র আটত্রিশ বৎসর আয়ুষ্কালে তিনি রুশ ভাষা ও সাহিত্যে একাধারে আধুনিক কাব্যভাষা, বাস্তববাদ, গদ্যকাহিনী, ট্রাজেডি, কাব্যনাট্য প্রভৃতির জনক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। কিন্তু তার প্রতিভার মর্ম ও গুরুত্ব বিদেশীর পক্ষে উপলব্ধি করা, রুশ ভাষা না জেনে, সহজ নয়। কবি রবীন্দ্রনাথের মহত্ত্ব ভাষান্তরের ভিতর দিয়ে যেমন ইউরোপীয় ভাষাভাষী কোন পাঠককে হৃদয়ঙ্গম করানো অসম্ভব, পুশকিনের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটিই ঘটে। এ প্রসঙ্গে এডমন্ড উইলসন ও নাবোকভের বিতর্ক মনে পড়বে। উইলসনের ন্যায় দুঁদে সমালোকে নাচোকভের পুশকিন অনুবাদে খুশি হননি এবং তার অভিযোগের জবাবে নাবোকভাবে তিরস্কারের মোদ্দা কথা ছিল- যা অসম্ভব তা সম্ভব করার দাবি তোলা অযৌক্তিক, আর উইলসন সাহেবের মাতৃভাষা রুশ হলে এমন অন্যায় আবদার তিনি করতে পারতেন না। আমরা জানি যে, ভ্লাদিমির নাবোকভ ছিলেন দ্বিভাষী। মাতৃভাষা রুশ ও অর্জিত ভাষা ইংরেজিতে তার পারদর্শিতার প্রমাণ উভয় ভাষাতেই তার সৃজনশীল সাহিত্য, এবং এ দুটির বাইরে অন্তত ফরাশি ও জর্মানেও তার ঈর্ষাণীয় দখল ছিল।</p>
<p>আলেক্সান্দর সের্গেইয়েভিচ পুশকিনের জন্ম মস্কোয়, ১৭৯৯ সালের ২৬ শে মে। তার বাবা সের্গিয়েই-এর পরিবার ছিল অন্তত ছ’শ বছরের পুরনো রুশ প্রাচীন অভিজাত বংশগুলোর একটি। আর মা ছিলেন সম্রাট পিওৎর ভেলিকি- যাকে আমরা পিটার দ্য গ্রেট হিসেবে জানি, তার অতি ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য রাজন্য আব্রাহম গানিবালের দৌহিত্রী। ইব্রাহিম হানিবলের জন্মভূমি ছিল আবিসিনিয়া, নানান ভাগ্যবিপর্যয়ের পর ক্রীতদাস হিসেবে তাকে রুশ সম্রাটের নিকট পাচার করা হয়েছিল কিশোর বয়সে। তবে হানিবলও সাধারণ পরিবার থেকে আসেননি, ছোটখাটো রাজপরিবারেরই সন্তান ছিলেন। রুশী রাজদরবারে এসে এই নিগ্রো ছেলেটির যাবতীয় সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটে এবং সম্রাটের নেক নজরে পড়ায় রাশিয়ায় ও ফ্রান্সে পড়াশোনার সুযোগ পান এবং প্রকৌশল বিদ্যায় শিক্ষিত হয়ে ওঠেন। ক্রমশ সম্রাটের সেনাবাহিনীতে, মেজর জেনারেল পদমর্যাদা নিয়ে প্রকৌশল দপ্তরের প্রধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। প্রসঙ্গত, রাজদরবারে আসার পরেই তাকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করা হয়েছিল, ইব্রাহিম নামটি হয়ে যায় আব্রাহাম, আর ধর্মপিতা সম্রাট পিওৎর নিজে হওয়ায় সম্পূর্ণ নামটি রূপান্তর ঘটে এভাবে: আব্রাহাম পেত্রোভিচ গানিবাল [রুশীতে হ ধ্বনি নেই।] সম্রাট তাকে খেতাব দিয়ে রাজন্যবর্গের অন্তর্ভুক্ত করে নেন, সম্রাজ্ঞী তাকে বিশেষ স্নেহের চক্ষে দেখতেন। পুশকিন তার অভিজাত বংশ ও আফ্রিকার রক্ত নিয়ে গর্ব করতেন।</p>
<p>তদনীন্তন খান্দানি পরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী বাড়িতে ফরাশি গর্ভনেস রাখা হয়েছিল। বাড়ির ফাইফরমাশ খাটার জন্য ছিল জর্মন চাকরবাকর, ইংরেজ পরিচারিকাও ছিল । আর ছিলেন আরিনা নামের দাই মা। যার মুখের ঘুমপাড়ানি ছড়া, গল্প ইত্যাদি শুনে শুনে সাধারণ রুশী জনজীবন ও মানুষজনের ভাষা বিষয়ে তিনি সচেতন হয়ে ওঠেন। জীবনীকারগণ বলেছেন, পুশকিন ফরাশি জানতেন ফরাশিদের মতোই, জর্মন, ইতালীয় ও ইংরেজি ভাষা থেকে অনুবাদ করতে পারতেন, গ্রিক ও লাতিন ধ্রুপদী সাহিত্য উত্তমরূপে পাঠ করেছিলেন এবং সমকালীন ইউরোপীয় ও মার্কিন কবি সাহিত্যিকদের রচনার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন।</p>
<p>পুশকিনের কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে কিশোর বয়সেই, কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় যখন তার বয়স পনেরো। রুসলান ই লুদমিনা (রুসসান ও লুদমিলা) নামে কাহিনীকাব্য ১৮২০ সালে প্রকাশিত হলে তখন থেকে উদায়মান যুগান্তকারী কবি হিসেবে পূর্বসূরী কবিকুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরবর্তী দশ বছর নানা ধরনের কবিতা রচনা, কবিতা ও কাব্যভাষা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও উদ্ভাবনায় ব্যাপৃত থাকেন। পরে তার মন যায় গদ্য রচনার দিকে- গদ্যকাহিনী নির্মাণ, ইতিহাস সম্পর্কিত গবেষণা ইত্যাদি। ১৮৩৬ সালে সভ্রেমিয়েন্নিক (সমকালীন) নামে একটি ত্রৈমাসিক সাহিত্যপত্র সম্পাদনা করতে শুরু করেন। এই পত্রিকাটি পুশকিনের আরেক অক্ষয় কীর্তি তার অকালমৃত্যুর পরেও এর মৃত্যু ঘটেনি এবং একাধিক সাহিত্যিকের সম্পাদনায় ১৮৬৬ পর্যন্ত চালু ছিল, ও তৎকালীন প্রগতিবাদী সাহিত্যধারাকে প্রতিষ্ঠা করার কাজে সক্রিয় থাকে। আমাদের মনে পড়ে যায়, খুবই প্রাসঙ্গিকভাবে, বাংলা ‘পরিচয়’ পত্রিকার কথা।</p>
<p>কবির ব্যক্তিগত জীবন খুব সুখের ছিল না। তিনি খোদ সম্রাট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শিখলেও এবং মেজাজে অভিজাত হলেও মননশীলতায় স্বৈরতন্ত্রবিরোধী ও জনদরদী ছিলেন। ‘ডিসেম্ব্রিস্ট’ নামে বিপ্লবী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত না হলেও তার কবিতা সদস্যদের কাছে পাওয়া গিয়েছিল। ধরা পড়ার পর এই দলের কারো ফাঁসি কারো বা সাইবেরিয়ায় নির্বাসন হয়ে গেলে সম্রাট তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তিনি ওদের চিনতেন কি না; দৃপ্ত উত্তর দিয়েছিলেন পুশকিন, বলেছিলেন: চিনলে জানলে তো ওদের সঙ্গেই থাকতাম। পুশকিন এত জনপ্রিয় ছিলেন যে সম্রাট প্রকাশ্যে কিছু করার সাহস পাননি, কিন্তু আমৃত্য তার পিছনে গুপ্তচর লাগিয়ে রেখেছিলেন। যারা, এমনকি গোপনে কবির ব্যক্তিগত দাম্পত্য সম্পর্কের চিঠিপত্রও খুলে খুলে পড়ত। তাকে নাস্তিক হওয়ার জন্য নির্বাসন দণ্ডও ভোগ করতে হয়েছিল কিছুকাল। পুশকিন বিবাহ করেছিলেন নাতালিয়া ইভানভনা গনচারভা নামের এক ডাকসাইটে বহুবল্লভা সুন্দরীকে। প্রাক বৈবাহিক দিনগুলোয় কবির বোহিমীয় জীবন, পানাসক্তি ও লাম্পট্য ছিল সুবিদিত। কিন্তু বিবাহোত্তর কালে তিনি সংসারী, পত্নীগতপ্রাণ, সুখী হতে চেয়েছিলেন। সন্তানও হয়েছিল কয়েকটি। কিন্তু বিধিলিপি খণ্ডাবে কে? জর্জ দঁত্যা নামের জনৈক ফরাশি এমন ঘনিষ্ঠতা কবি-স্ত্রীর সঙ্গে পাকিয়ে তুললেন যে নিজের সম্মান রক্ষার জন্য ভদ্রলোককে ডুয়েলে আহ্বান না করে পুশকিনের গত্যন্তর থাকল না। দ্বন্দ্বযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হল ১৮৩৭ সালের ২৭ জানুয়ারি তারিখে। শোচনীয়ভাবে আহত হলেন পুশকিন, দুদিন ধরে প্রচুর রক্তক্ষরণে মারা গেলেন ২৯ তারিখে।</span>
<div><!-- Wordbooker created FB tags --> <iframe src="http://www.facebook.com/plugins/like.php?href=http://www.rashal.com/blog/?p=247&amp;layout=button_count&amp;show_faces=false&amp;width=&amp;action=like&amp;colorscheme=light&amp;font=arial&amp;height=35px" scrolling="no" frameborder="0" style="border:none; overflow:hidden; width:px; height:35px;" allowTransparency="true"></iframe>
<div style="float:right;"><!-- Wordbooker created FB tags --> <a name="fb_share" type="button" share_url="http://www.rashal.com/blog/?p=247"></a></div>
</div>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.rashal.com/blog/?feed=rss2&amp;p=247</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ফেদেরিকো গার্থিয়া লোরকা চরিত</title>
		<link>http://www.rashal.com/blog/?p=127</link>
		<comments>http://www.rashal.com/blog/?p=127#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 03 Nov 2009 06:46:38 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিশ্ব সাহিত্য]]></category>
		<category><![CDATA[ফেদেরিকো গার্থিয়া লোরকা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.rashal.com/blog/?p=127</guid>
		<description><![CDATA[গ্রানাদা জন্ম দিয়েছে বিশ্ববিশ্রুত অনেক কবি-লেখকের। কিন্তু জনপ্রিয়তা, খ্যাতি আর প্রভাবের বিচারে ফেদেরিকো গার্থিয়া লোরকার সঙ্গে কারোরই তুলনা চলে না। জীবৎকালেই হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তি। আর মৃত্যুর পর তার খ্যাতি স্বদেশ স্পেনের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে সপ্তসিন্ধু দশদিগন্তে। সবচে’ বেশি সংখ্যক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হিস্পানি ভাষার এই কবি-নাট্যকারের ভক্তের সংখ্যা উত্তরকালে কেবলই বেড়েছে। অন্যভাবে বললে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><strong></strong><br />
গ্রানাদা জন্ম দিয়েছে বিশ্ববিশ্রুত অনেক কবি-লেখকের। কিন্তু জনপ্রিয়তা, খ্যাতি আর প্রভাবের বিচারে ফেদেরিকো গার্থিয়া লোরকার সঙ্গে কারোরই তুলনা চলে না। জীবৎকালেই হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তি। আর মৃত্যুর পর তার খ্যাতি স্বদেশ স্পেনের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে সপ্তসিন্ধু দশদিগন্তে। সবচে’ বেশি সংখ্যক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হিস্পানি ভাষার এই কবি-নাট্যকারের ভক্তের সংখ্যা উত্তরকালে কেবলই বেড়েছে। অন্যভাবে বললে স্পেনে ও স্পেনের বাইরে, আবিশ্ব নিখিলে, গার্থিয়া লোরকা আজ এক জাদুনাম।</p>
<p>লোরকার জন্ম ১৮৯৮ খিস্টাব্দের ৫ জুন, গ্রানাদা থেকে মাইল কয়েক দূরে গেনিল নদীতীরবর্তী ফেন্তে ভাকেরোস (Fuente Vaqueros) নামের এক ছোট্ট গ্রামে। জায়গাটা গ্রানাদার বিস্তীর্ণ উর্বর ভেগা অঞ্চলের ঠিক কেন্দ্রস্থলে। গ্রাম ঘিরে আছে নিবিড় পপলারকুঞ্জ। লোরকার বাবা দন ফেদেরিকো গার্থিয়া রদ্রিগেস (Don Federico Garcia Rodriguez) ছিলেন সে গ্রামেরই এক সম্পন্ন কৃষক। আর মা দোনা ভিসেন্তা লোরকা রোমিয়েরো (Dona Vicenta Lorca Romero) ছিলেন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। লোরকার জীবনের প্রথম ১১টি বছর কাটে এই ভেগা অঞ্চলে — জলপাইবন আর সঘন পপলারকুঞ্জ, সদা কলস্বরা স্রোতোস্বিনী, পাহাড়, উপত্যকা আর তৃণভূমিঘেরা মায়াবী গ্রামীণ নিসর্গের কোলে। নিজের চাষাভুষোমার্কা চেহারাটাও তার সেখান থেকেই পাওয়া — রসিকতা করে প্রায়ই বলতেন লোরকা।</p>
<p>১৯০৯ সালে লোরকার পরিবার তার পড়াশুনার জন্য পাড়ি জমায় গ্রানাদা শহরে। নিউইয়র্কে আট মাস, কিউবাতে তিন মাস (১৯২৯-৩০) আর বুয়েনোস আইরিসে পাঁচ মাস (১৯৩৩-৩৪) — এই সময়টুকু বাদ দিলে লোরকার ঝোড়ো আর স্বপ্লায়ু জীবনের পুরোটাই কেটেছে মাদ্রিদ আর গ্রানাদায়। ১৯৩৬ সালের জুলাইতে, স্পেনে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঠিক আগে, বন্ধুদের নিষেধ উপেক্ষা করে লোরকা ফিরে যান গ্রানাদায়। আর তার এক মাস পরেই ১৯ আগস্ট স্বৈরশাসক জেনারেল ফ্রাঙ্কোর খুনে ফালাঙ্গিস্ত (Falangist) বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ দেন। ঐতিহ্যবাহী যে-প্রিয় মুরিশ শহরে বেড়ে উঠেছিলেন লোরকা, যে শহর বারবার ঝিল্‌কে উঠেছে তার কবিতা ও নাটকে, সেই গ্রানাদারই অনতিদূরে ঘাতকের বুলেটে অকালে লুটিয়ে পড়েছে তার তরুণ মেধাবী প্রাণ।</p>
<p>বলা বাহুল্য, প্রাগ্রসর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীই কাল হলো লোরকার। এ নিয়ে কোনো রাখঢাক ছিলো না তার। আর সেটাই ক্ষেপিয়ে তোলে উগ্র ডানপন্থিদের। তারা তাকে দুষমণ হিসেবে চিহ্নিত করে। গ্রানাদার উত্তর-পুবের আল্‌ফাকার (Alfaqar) নামের পাহাড়ঘেরা স্থানে একটি জলপাইগাছের নিচে গুলি করে মারা হয় ৩৮ বছর বয়সী লোরকাকে। আজও সেই জলপাইতরু ঠায় দাঁড়িয়ে। অবশ্য সেটি এখন ‘লোরকা স্মৃতিউদ্যান’-এর ভেতর দেয়াল দিয়ে ঘেরা। সেখানটায় আরও তিন হতভাগার সঙ্গে সমাহিত করা হয় তাকে। ওদের একজন স্কুল শিক্ষক, বাকি দু’জন মাতাদোর (ষাঁড়-লড়িয়ে )।<br />
<em><small>রাফায়েল আলবের্তি ও মারিয়া তেরেসার সঙ্গে লোরকা, ১৯৩৪</small></em></p>
<p>তার কালের মহান ফ্লামেঙ্কো (Flamenco) গায়ক হুয়ান ব্রেভা’র (Juan Breva) প্রশস্তি করে একটা কবিতা লিখেছিলেন লোরকা। সে কবিতারই কয়েকটি চরণ হতে পারতো সদা-হাসিমাখা-মুখের-কবি লোরকার নিজেরই এফিটাফ :<br />
`…Era la misma<br />
pena cantando<br />
detrás de una sonrisa.’</p>
<p>উপরের তিনটি চরণের ইংরেজি ভাষান্তর হাতের কাছে নেই। স্প্যানিশ ভাষায় আমার হাঁটুভাঙা যেটুকু জ্ঞান তাতে বাংলা করলে অনেকটা এরকম দাঁড়ায়:<br />
‘নিজের অসহ যাতনা<br />
ছিলো সে  নিজে<br />
হাসিতে তা ঢেকে গেয়ে গেছে নিজ গান’</p>
<p>বহু সংস্কৃতির ঐকতান-ধ্বনিত গ্রানাদা, বহু শতাব্দীর বিস্ময়-খচিত গ্রানাদা এমন এক উন্মুক্ত স্বর্গের নাম একদা যাতে এসে মিশেছিল নানা জাতির রক্ত আর মেধা, পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের ঢেউয়ের কলতান আর নিকটপ্রাচ্যের বহুবর্ণিলতা, গ্রিক, আরব আর রোমানদের নানা গরিমা আর জিপসিদের অনিকেতবৃত্তি। এসব কিছুকেই সাঙ্গীকৃত করে এগিয়েছেন লোরকা। আন্দালুসিয়ার লোক-ঐতিহ্যের উদ্দীপক ইডিয়ম আর মেটাফরকে তিনি খুঁজে ফিরেছেন তার কবিতায় নাটকে। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এমন সংরাগদীপ্ত মেলবন্ধন স্পেনের আর কোনো কবির মধ্যে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আজো, তার মৃত্যুর এতোকাল পরেও, স্পেনের মানুষ লোরকার কবিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের চেনাতে ভালোবাসে। সম্ভবত আধুনিক কালে তিনিই একমাত্র কবি যার কবিতাকে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত আর অশিক্ষিত সবাই ভালোবাসে;`…a poet whose worth is loved and acclaimed by the illiterate and the sophisticated alike.’ এ সত্ত্বেও লোরকা ছিলেন আধুনিক কালের সবচে’ জটিল কবিদের একজন। কেননা ব্যক্তিগত কাব্যভাষা ও ইডিয়ম তৈরির জন্য ক্রম অপসৃয়মান এক লোকজীবনের ভাবাবেগের সঙ্গে ক্রম আগ্রাসী, ক্রম জটিল আর শিল্পায়িত এক পৃথিবীর মূল্যবোধের মেলবন্ধন ঘটাবার প্রায়-অসম্ভব কাজে হাত দিতে হয়েছিল তাকে। কবিতার টেকনিক আর উপাদানের জন্য সমসাময়িকদের দিকে যেমন, তেমনি তিনি অকুণ্ঠিতভাবে হাত বাড়িয়েছেন মধ্যযুগের আরব কবিদের দিকে, গ্রিক-রোমান কাব্যের অতীত ঐতিহ্যের দিকে, পুরাণ-উপকথার দিকে ।</p>
<p>প্রেম, ভাবাবেগ আর সহিংস মৃত্যু — সর্বদাই এ তিনটি তার কবিতার প্রধান অনুষঙ্গ। সবকিছু ছাপিয়ে বারংবার নিজের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে তার কবিতা ও নাটকে। এমনকি লঘু রচনায়ও তার দেখা মেলে। তার নিতান্তই হাল্কারসের একটি লেখা শেষ হয়েছে মৃত্যুর অনুষঙ্গ দিয়ে: “Take me by the hands, my love, / for I come quite badly wounded / Dying of love!’’</p>
<p>লোরকার চোখে মৃত্যু এক নীরব আগন্তুক, সর্বদা মুখোশ-পরে-থাকা মনোলিথিক এক শক্তি, যে বিনা বাধায় জীবনের টুঁটি টিপে ধরে মেতে ওঠে অনিবার উল্লাসে। তার তীব্র নখরে বন্দি জীবনের ত্রস্ত বুলবুল:“…Three thousand men came armed with shining knives to assasinate the nightingale.’’</p>
<p>এ রকম অসংখ্য ভয় জাগানিয়া, রোমহর্ষক চিত্রকল্প ছড়িয়ে আছে তার কবিতায় কবিতায়। ‘নিউ ইয়র্কে কবি’ (Poeta en Nueva York) নামের কবিতায় এভাবেই নিজের মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করেন লোরকা:<br />
“ ..I sensed that they had murdered me.<br />
They swept through cafes, graveyards, churches,<br />
They opened the wine-casks and the closets,<br />
They ravaged three skeletons to yank the gold teeth out.<br />
But they never found me.<br />
They never found me?<br />
No, they never found me.’’</p>
<p>(Edwin Honig-এর ইংরেজি অনুবাদ থেকে উদ্ধৃত)</p>
<p>লোরকা হয়তো ফালাঙ্গিস্তদের দিক থেকে নিজের ঘনায়মান বিপদ আঁচ করতে পেরেছিলেন। তাই পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন ডানপন্থি এক বন্ধুর কাছে। তবু শেষরক্ষা হয়নি। বন্ধুটির অনুপস্থিতির সুযোগে খুনে ব্ল্যাক গার্ড বাহিনীর লোকেরা সিভিল গভর্নমেন্ট বিল্ডিংয়ে তার বন্ধুর বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। তার পরের ঘটনা সবার জানা। বিনা বিচারে পরদিন ভোরে গুলি করে মারা হয় স্পেনের সর্বকালের সেরা কবিরত্নটিকে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, খুন করার আগে লোরকাকে তার নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে ওরা।</p>
<p>‘‘ওর (লোরকার) পায়ুপথে দু’দুটো গুলি ছুড়েছিলাম আমি…’’ — খুনিদের একজন পরে গর্ব করে বলেছিলো।</p>
<p>এমনই নৃশংস, বীভ
<div><!-- Wordbooker created FB tags --> <iframe src="http://www.facebook.com/plugins/like.php?href=http://www.rashal.com/blog/?p=127&amp;layout=button_count&amp;show_faces=false&amp;width=&amp;action=like&amp;colorscheme=light&amp;font=arial&amp;height=35px" scrolling="no" frameborder="0" style="border:none; overflow:hidden; width:px; height:35px;" allowTransparency="true"></iframe>
<div style="float:right;"><!-- Wordbooker created FB tags --> <a name="fb_share" type="button" share_url="http://www.rashal.com/blog/?p=127"></a></div>
</div>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.rashal.com/blog/?feed=rss2&amp;p=127</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড</title>
		<link>http://www.rashal.com/blog/?p=121</link>
		<comments>http://www.rashal.com/blog/?p=121#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 03 Nov 2009 06:25:44 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিশ্ব সাহিত্য]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.rashal.com/blog/?p=121</guid>
		<description><![CDATA[স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড KBE ( ২২ জুলাই ১৮৫৬ – ১৪ মে ১৯২৫) ইংরেজী সাহিত্যে যিনি অভিযানমুলক কাহিনী এর জন্য বিখ্যাত, তিনি কিন্তু জীবনের বেশি ভাগ টুকুই কাটান আফ্রিকায়। তিনি ব্রিটিশ সম্রাজ্যের কৃষি উন্নয়নেও অবদান রেখেছেন। ভিক্টোরিয়ান যুগের গোড়ার দিকে তার রচিত গল্প গুলো জনপ্রিয়তা পায় এবং তা ইংরেজি সাহিত্যকে প্রভাবিত করতে থাকে। বাল্য ও [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড KBE ( ২২ জুলাই ১৮৫৬ – ১৪ মে ১৯২৫) ইংরেজী সাহিত্যে যিনি অভিযানমুলক কাহিনী এর জন্য বিখ্যাত, তিনি কিন্তু জীবনের বেশি ভাগ টুকুই কাটান আফ্রিকায়। তিনি ব্রিটিশ সম্রাজ্যের কৃষি উন্নয়নেও অবদান রেখেছেন। ভিক্টোরিয়ান যুগের গোড়ার দিকে তার রচিত গল্প গুলো জনপ্রিয়তা পায় এবং তা ইংরেজি সাহিত্যকে প্রভাবিত করতে থাকে।<br />
বাল্য ও যৌবনকাল :<br />
তিনি ছিলেন বাবা স্যার উইলিয়াম ম্যাব্যোম্ রাইডার হ্যাগার্ড এবং মা ইলা ডোভটনের দশ সন্তানের অষ্টম সন্তান।তার জন্ম হয় ইংল্যান্ডের বাডেনহাম, নরফ্লকে । তাঁকে বাল্যশিক্ষার জন্য অক্সফোর্ডশায়ারের গারসিংটন রেকটরিতে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি রেভারেন্ড এইছ, জে, গ্রাহাম এর তত্তাবধানে শিক্ষা লাভ করতে থাকেন। তার অন্যান্য ভাইয়েরা ইংল্যান্ডের বিভিন্ন পাবলিক স্কুল হতে গ্রাজুয়েট সম্পন্ন করলেও তাকে ইপসউইচ গ্রামার স্কুলে পাঠানো হয় – এর কারন সম্ভবত তার বাবা তার প্রতি ততটা আশাবাদী ছিলেন না এবং ভেবে ছিলেন যে তিনি বোধ হয় তার এই ছেলের পাবলিক স্কুলে পড়ার খরচ যোগাতে পারবেননা। এরপর হ্যাগার্ড মিলিটারি এনট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করতে না পারলে তাকে লন্ডনে একজন crammer(যে শিক্ষক ছাত্রদের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করান) নিকট পাঠানো হয় ব্রিটিশ ফরেন অফিসার পদে পরীক্ষা দেবার প্রস্তুতির জন্য। কিন্তু তিনি এপরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেন নি। লন্ডনে দুবছর অবস্থানকালে তিনি সেসব লোকদের সাথে পরিচিত হন যারা ভবিষ্যত ইন্দ্রিয়পরায়নতা নিয়ে চর্চা করতেন।<br />
পেশাগত জীবনী :<br />
তাই হ্যাগাডের বাবা তাকে ১৮৭৫ সালৈ বিট্রিশ কলোনী নাটাল বর্তমানে আফ্রিকায় পাঠিয়ে দেন। সেখানে তিনি সেই কলোনির লেফেটেন্ট গভর্ণর স্যার হেনরি বওলার এর অধীনে সহকারী সচিব পদে বিনা বেতনে চাকুরী করতে থাকেন। পরের বছর তাঁকে ট্রানসভালের বিশেষ কমিশনার স্যার থিওফিলাস সিফেস্টোনের স্টাফ হিসেবে বদলি করা হয়। এপদে তিনি প্রিটোরিয়ায় ১৮৭৭ সালের এপ্রিলে ট্রান্সভালের বোর রিপাবলিক সম্পর্কে ব্রিটিশ সরকারের অফিসিয়াল ঘোষনা না হওয়া পযন্র্ত বহাল ছিলেন । প্রকৃত পক্ষে তিনি এখানে ব্রিটিশদের মযার্দা সমুন্নত করতে চেষ্টার কোন ত্রুটি করনি।<br />
ঠিক এই মুহূর্তে তার জীবনে আসে প্রেম । তার প্রেমিকার নাম ছিল মেরী এলিজাবেথ “লিলি” জ্যাকসন (‘মন্টেজুমার মেয়ে’ নামক বইতে তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল লিলি)। ১৮৭৮ সালে তিনি ট্রান্সভালের হাইকোর্টে বেতনভুক্ত রেজিস্টার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি লিলিকে বিয়ে করতে মনস্ত করেন এবং তার বাবার কাছে লন্ডনে ফেরার অনুমতি প্রাথর্না করেন যাতে সেখানে গিয়ে তিনি তাকে বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু তাঁর বাবা তাকে নিজ পায়ে না দাড়ানো পযর্ন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। এরমধ্যই লিলি ১৮৭৯ সালে ফ্রাঙ্ক আর্চার নামক একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকারকে বিয়ে করেন। ফলে হ্যাগার্ড যখন ১৮৮০ সালে ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন , তখন তিনি তাঁর বোনের এক বান্ধবী লুইসা মাগির্টসন(মারিয়ানা) কে বিয়ে করেন এবং তাকে নিয়ে আবার আফ্রিকা ভ্রমনে বেরিয়ে পড়েন। তাঁদের একটি ছেলে এবং তিনটি মেয়ে সন্তান জন্মলাভ করে। হ্যাগার্ডের ছেলের নাম ছিল জোওক ( হ্যাগার্ডের এই ছেলেটি হাম রোগে মারা যায়) এবং মেয়ে তিন জনের নাম যথাক্রমে এ্যাঞ্জেলা, ডরোথী ও লিলিয়াস। এদের মধ্য লিলিয়াসই তার বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন এবং লেখিকা হিসেবে নাম করেন। তিনি তার বাবার জীবনীও সম্পাদনা করেন যা “দ্য ক্লওক দ্যাট আই লেফট” নামে ১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয়। এছাড়া তার উল্লেখযোগ্য বই হলো “দ্য রাবিট স্কিন ক্যাপ” ।<br />
১৮৮২ সালে হ্যাগার্ড ও মার্গিটসন আবার ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন। হ্যাগার্ড দম্পতি প্রথমে ডিচিংহাম, নরফ্লকে লুইসার পৈতৃক বাসাতে এবং পরে তারা কেসিংল্যান্ডে বসবাস শুরু করে। কেসিংল্যান্ডে তারা ব্যানগে, সাফ্লকের চার্চে সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।<br />
সালে আইন নিয়ে পড়াশুনা শুরু করেন এবং ১৮৮৪ সালে আইনজীবী হিসাবে আদালতে অনুশীলন করতে থাকেন। কিন্তু তিনি দেখলেন যে আইন ব্যবসার চেয়ে লেখালেখিতে বেশি অর্থ পাওয়া যায় তাই তিনি এর প্রতি মনোনিবেশ কম দেন। তার বেশিভাগ সময় টা লেখার কাজে ব্যায়িত হতে থাকে। লন্ডনে হ্যাগার্ডের ঠিকানা ছিল ৬৯, গুন্থারস্টোন রোড, হ্যামারস্মিথ। তিনি এখানে ১৮৮৫ সালে মাঝামাঝি হতে ১৮৮৮ সালে এপ্রিল পযর্ন্ত বসবাস করেন এবং এখানেই তিনি তাঁর বিখ্যাত বই “ কিং সলোমান’স মাইন” বা সলোমানে গুপ্তধন লেখা সম্পন্ন করেন (১৮৮৫ সালে প্রকাশিত)।<br />
তাঁর জীবনের ঘটে যাওয়া আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা যেমন সেখানে একটি বিশাল খনিজ ভান্ডার খঁজে বের করা এবং আফ্রিকার প্রাচীন সব জনগোষ্ঠী যেমন জিম্বাবুয়ে ইত্যাদি জাতি সমুহের ধ্বংস্ব প্রত্যক্ষন ইত্যাদি তাকে তার ‘অ্যালান কোটারমেন’ চরিত্রটি সৃষ্টিতে অনুপ্রানিত করে।এ চরিত্রে তাঁর পরিচিত ফ্রেডরিক সেলাস এবং ফ্রেডরিক রাসেলের অনেকটাই ছায়া বলা যেতে পারে।তিনি ‘কোটারমেন’কে নিয়ে বেশ কিছু গল্প লিখেন যেগুলো ‘দ্য উইজার্ড’, ‘এলিসা’,’দ্য ডুম অব জিম্বাবুয়ে’, ‘হোয়াইট হার্ট এন্ড ব্যাক্ল হার্ট’, ‘অ্যা জুলু আইডিল’ ইত্যাদি নামে প্রকাশিত হয়। ‘অ্যা জুলু আইডিল’ উপন্যাসটি তিনি বার্নহামের মেয়ে ‘নাদা’কে উৎসর্গ করেন। এই ‘নাদা’ই হলো বুলাওয়ে জন্মলাভ করা প্রথম সাদা শিশু যার নাম রাখা হয়েছিল হ্যাগার্ডে বই ‘নাদা দ্যা লিলি’ এর নাম অনুসারে ।<br />
পরবর্তী বছরগুলোতে হ্যাগার্ড যখন লেখক হিসাবে প্রতিষ্ঠা পান তখন তিনি তাঁর পূর্বের প্রেমিকা লিলি আর্চার এর সংস্পর্সে আসেন।লিলি তখন কর্পদশুন্য অবস্থা । তাঁর স্বামী তার সমম্ত সম্পত্তি কেড়ে নেয় এবং বেহিসেবে খরচের দ্বারা ঋণে জর্জরিত হয়ে আফ্রিকা পালিয়ে যায়। হ্যাগার্ড তার খরপশরার দায়িত্ব নিজের কাধে তুলে নেন এবং তার ছেলে পড়াশুনার ব্যবস্থা করেন। কিছুদিন পর লিলি আফ্রিকায় তার স্বামীর খোঁজ করতে গেলে সেখানে তিনি সিফিলিস রোগে আক্রান্ত হন।অতপর তিনি ১৯০৫ সালে আবার ইংল্যান্ডে ফিরে আসলে হ্যাগার্ড তার পূনরায় তার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন। অবশেষে লিলি আর্চার ১৯০৯ সালে ২২শে এপ্রিল মারা যান। এসব কিছু কিন্তু জানা যায় যখন ১৯৮৩ সালে ডি এস হিগিংস কতৃর্ক তাঁর জীবনী প্রকাশিত হয়।<br />
হ্যাগার্ড কৃষি উন্নয়নের একজন সক্রিয় কর্মী এবং কৃষিজমির ব্যবহারের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সাথে জড়িত ছিলেন।আর এজন্য তিনি বেশ কয়েক বার ইংল্যান্ডের বিভিন্ন কলোনি এবং বাজ্যসমুহে ভ্রমন করেন।এজন্য তাঁকে ১৯১২ সালে ‘অর্ডার অব ব্রিটিশ এ্যাম্পায়া’ এর একজন নাইট ব্যাচেলর এবং ১৯১৯ সালে একজন নাইট কমান্ডার মনোনীত করা হয়।তিনি ১৮৯৫ সালে গ্রীষ্মকালীন নিবার্চনে কনজার্ভেটিব দলের হয়ে সাংসদ পদে প্রতিযোগিতা করেন এবং মাত্র ১৯৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।<br />
লেখক জীবনী :<br />
হ্যাগার্ডের বিখ্যাত বইসমুহের মধ্য ‘কিং সলোমান’স মাইন’ এবং এর পরবর্তী কাহিনী ‘অ্যালান কোটারমেইন’, ‘শী’ এবং এর পরবর্তী কাহিনী ‘আয়শা’ ইত্যাদির নাম উল্লেখযোগ্য। তাঁর প্রায় প্রতিটি কাহিনীতে আফ্রিকার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের বর্ননা পাওয়া যায় (তবে ‘আয়শা’র ঘটনাটা তিব্বতকে নিয়ে লেখা)।এছাড়া তিনি স্মরনীয় হয়ে থাকবে তার আফ্রিকান জুলুদের উপকথার কাহিনী ‘ নাদা দ্য লিলি’ এবং মহাকাব্য ‘ভাইকিং’ এবং ‘এরিক ব্রাইটিজ’ এর জন্য।<br />
তাঁর বিভিন্ন কাহিনীতে আফ্রিকার বিভিন্ন জাতি সম্পর্কে যে দরদ দেখান এবং সেখানকার জনপদ সমুহে যে চমকপ্রদ বর্ণনা প্রদশির্ত হয়েছে তা অবশ্যই উল্লেখ করার মত।এধরনের কাহিনীতে তিনি প্রায় স্থানীয় অধিবাসীদের বীরত্ব গাথা বর্ননা করেছেন কিন্তু দেখা গেছে তিনি তাদের নেতা হিসেবে একজন ইউরোপীয়ানকে নিবার্চিত করেছেন। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায় ‘ সলোমানে গুপ্তধন’ গল্পে জুলু যোদ্ধা আমস্লোপাগাস এবং কুকুয়াল্যান্ডের ন্যায়সঙ্গত রাজা ইগনোসির কথা।সে দেখা যায় তিনজন সাদা মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করে এবং তার হারানো বাজ্য ফিরে পেতে সচেষ্ট হয়। সে তাদের উপদেশ অনুসরন করে এবং যাদু চর্চা ও বেআইনি হত্যা বন্ধে সম্মত হয়।হ্যাগার্ড তার বন্ধু এন্ড্রু এর সাথে যৌথ ভাবে তিনটি বই লেখন যেগুলোতে আত্মিক জগত এবং অস্বাভাবিক ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যতার কারন খুজার প্রয়াশ লক্ষ্য করা যায়।<br />
হ্যাগার্ড কৃষি এবং সামাজিক উন্নয়নের জন্যও অনেক লেখালেখি করে গেছেন। এসব ক্ষেত্রে তিনি শুধু তাঁর আফ্রিকার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাননি বরং ইউরোপের বিভিন্ন ঘটনাও কাজে লাগিয়েছেন। শেষ জীবনে তিনি সমাজ তন্ত্র তথা বলশেভিক আন্দোলনের তীব্র বিরোধিতা করেন। এক্ষেত্রে তিনি রাডইয়াড কিপলিং এর সাথে বন্ধুত্ব লাভে সমর্থ হন এবং দুজন মিলিত ভাবে এর বিরুদ্ধে বিবৃত দিতে থাকেন।আজীবন এইদুজনের বন্ধুত্ব বজায় ছিল।<br />
কৃতিত্ব ও তাঁর উত্তরাধিকারীগন :<br />
হ্যাগার্ডে গল্প সমুহ এখন বেশ জনপ্রিয় । ‘আয়শা’ গল্পে কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রটি বিখ্যাত সাইকোএ্যানালিস্ট সিগমুন্ড ফ্রেডের দ্য ইন্টারপ্রেটেশন অব ড্রিমস এবং কার্ল জাঙ্ক গল্পের একটি ভিন্ন প্রোটোটাইপ বলে বিষেজ্ঞরা রায় দিয়েছেন। তার উপাধিটি ‘ শী হু মাস্ট বি ওবেইড’ ব্রিটিশ লেখক জন আর্থার তাঁর ‘রামপল অব দ্য বেইল’ সিরিজে কেন্দ্রিয় চরিত্রের নাম নিবার্চন করেন , একজন অনভিজ্ঞ ব্যারিস্টার একবার তাঁর স্ত্রীকে এনামে সম্বোধন করেন যার ভয়ে তিনি বাড়ীতে অস্থির থাকতেন।<br />
হ্যাগার্ডের হারানো পৃথিবীর মানষের ধারনাটি কিন্তু অনেকেই প্রভাবিত হয়েছিল এদের মধ্যছিল আমেরিকার জনপ্রিয় লেখক এ্যাডগার বাইজ ব্যারোজ, রবার্ট ই হাওয়ার্ড, ট্যালবট মানডি, অ্যাবরাহাম মেরিট প্রমুখ। এরই ফলশ্রুতিতে আমরা আমেরিকান ইন্ডিয়ানা জোনস্, রেইডার অব লস্ট আর্ক , টেম্পেল অব ডুম, এবং ইন্ডিয়ানা জোনস এবং দ্য লাস্ট ক্রুসেড প্রভৃতি ছবির চরিত্রসমুহে কোয়াটারমেনের গল্প ‘কিং সলোমানের গুপ্তধন’ এবং<br />
এর পরবর্তী কাহিনী প্রভাব লক্ষ্য করতে পারি। সম্প্রতি কোয়াটারমেন চরিত্রটি ‘লীগ অব এক্সট্রা অডির্নারী জেন্টলম্যান’ ছবির জন্য আবার আলোচিত হচ্ছে।<br />
অক্সফোর্ড ইঙ্কলিঙ্কসদের একজন রজার ল্যানসিন গ্রীন হ্যাগার্ডের প্রশংসা করেছেন এভাবে ‘তিনি (হ্যাগার্ড) হলেন খুবই উচ্চ সাহিত্য মান সম্পন্ন লেখক এবং তার কল্পনা শক্তি ছিল রবার্ট লুই স্টিভসনের সমতূল্য’।<br />
তথ্য সূত্র : উইকিপিডিয়া
<div><!-- Wordbooker created FB tags --> <iframe src="http://www.facebook.com/plugins/like.php?href=http://www.rashal.com/blog/?p=121&amp;layout=button_count&amp;show_faces=false&amp;width=&amp;action=like&amp;colorscheme=light&amp;font=arial&amp;height=35px" scrolling="no" frameborder="0" style="border:none; overflow:hidden; width:px; height:35px;" allowTransparency="true"></iframe>
<div style="float:right;"><!-- Wordbooker created FB tags --> <a name="fb_share" type="button" share_url="http://www.rashal.com/blog/?p=121"></a></div>
</div>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.rashal.com/blog/?feed=rss2&amp;p=121</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আমার জীবন</title>
		<link>http://www.rashal.com/blog/?p=104</link>
		<comments>http://www.rashal.com/blog/?p=104#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 01 Nov 2009 18:05:26 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিশ্ব সাহিত্য]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.rashal.com/blog/?p=104</guid>
		<description><![CDATA[মূল: মার্ক শাগাল ভাষান্তর: অদিতি ফাল্গুনী অনুবাদকের বর্ণনায় বইটির পরিচিতি কিছুটা তুলে ধরা যাক। বইয়ের ফ্লাপ থেকে আলোচনাটি উল্লেখ করছি। &#8220;বিংশ শতাব্দীর অন্যতম মহান এই চিত্রকর রাশিয়ার ছোট্ট মফস্বল শহর উইটবক্সে (উচ্চারণভেদে ভিটবক্স) জন্মেছিলেন ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে। ঘিঞ্জি ও নিরানন্দ ইহুদি ঘেটোতে। ১৯০৬ সাল হতে ১৯১০ সাল অবধি সেন্টপিটার্সবুর্গে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্কন বিদ্যার হাতেখড়ি ও ক্রমবিকাশমানতা। [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>মূল: মার্ক শাগাল</p>
<p>ভাষান্তর: অদিতি ফাল্গুনী</p>
<p>অনুবাদকের বর্ণনায় বইটির পরিচিতি কিছুটা তুলে ধরা যাক। বইয়ের ফ্লাপ থেকে আলোচনাটি উল্লেখ করছি।</p>
<blockquote><p>&#8220;বিংশ শতাব্দীর অন্যতম মহান এই চিত্রকর রাশিয়ার ছোট্ট মফস্বল শহর উইটবক্সে (উচ্চারণভেদে ভিটবক্স) জন্মেছিলেন ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে। ঘিঞ্জি ও নিরানন্দ ইহুদি ঘেটোতে। ১৯০৬ সাল হতে ১৯১০ সাল অবধি সেন্টপিটার্সবুর্গে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্কন বিদ্যার হাতেখড়ি ও ক্রমবিকাশমানতা। এই চার বছরের শেষ দুই বছর আবার তিনি কাটিয়েছেন পিটার্সবুর্গে বিখ্যাত বাক্সটের স্কুলে। তবু প্রথামাফিক অংকনের নিশ্চিত প্রতিষ্ঠা ছেড়ে ঝুঁকলেন তাঁর নিজস্ব নিরীক্ষার পথে। ১৯১১ সালে প্যারিসে এসে অর্ফিক কিউবিজমকে প্রকরণ ও গুয়াশকে প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিলেন। ১৯১১ থেকে ১৯১৪ সাল অবধি একশরও বেশি গ্যুয়াশে আঁকেন তিনি। শৈশবস্মৃতি, ইহুদি ধর্মীয়কৃত্য কি গ্রাম দেশের সার্কাস সব কিছু মিলেমিশে এক ভিন্নধর্মী কবিতা। প্রথম মহাযুদ্ধের সময় রাশিয়া ফিরে বিয়ে করেন কৈশোরের প্রেমিকা বেলাকে। বলশেভিক বিপ্লবের পরও বেশি কিছুকাল পর্যন্ত রাশিয়ায় থাকেন।</p></blockquote>
<p>১৯১৯ সালের বিপ্লবোত্তর মস্কো শহরে শাগালের জীবনের এক গভীর অনিশ্চিত সময়ে তিনি তার আত্মজীবনী রচনা শুরু করেন এবং পরবর্তী সময়ে বার্লিনে ফিরে অজস্র ছবি আঁকেন ও আত্মজীবনীর সাথে জুড়ে দেন। ফলাফল দাঁড়ায় পাঠককে বিমোহিত করে দেয়া এক সাহিত্যিক দৃশ্যকাব্য যা শাগালের প্রস্তুতিকালীন বছরগুলোরও একটি দলিল। দলিল তার জীবনে রেখাপাত করা সেইসব শৈল্পিক প্রভাবের, যা তার জীবনের মহত্তম মাস্টারপিসসমূহ অঙ্কনে সাহায্য করেছে। স্বভাবসিদ্ধ কৌতুক এবং ওজস্বীতায় তিনি রাশিয়ার এক মফস্বল শহর উইটবক্সে পার করা তাঁর শৈশবের কথা জানিয়েছেন। জানিয়েছেন তাঁর প্রথম তারুণ্যের এডভেঞ্চারসমূহ, হবু স্ত্রী বেলার সাথে প্রথম সাক্ষাৎ এবং অত:পর রাশিয়া থেকে প্যারিসে এসে বোহেমিয়ান শিল্পীগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা। এখানেই তিনি খুঁজে পান পূর্ণতা ও স্বীকৃতি। ১৯১৪ সালে যখন যুদ্ধ শুরু হলো, শাগাল তার পরিবারসুদ্ধ রাশিয়ায় ফিরলেন, এবং অক্টোবর বিপ্লবের পরে উইটবক্স শহরের &#8216;চারুকলা&#8217; বা &#8216;ফাইন আর্টের&#8217; কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন। কিন্তু শাগালের নব্য ফরাসি রীতি শিল্পকলা কর্তৃপক্ষের কাছে দুর্বোধ্য ও অস্বস্তিকর হিসেবে বিবেচিত হতে শুরু করে। ফ্রান্সে ফেরার সিদ্ধান্ত দিয়ে শাগালের এই আত্মজীবনী শেষ হয়। সেখানেই বাকি জীবন কাটান পরিবারসুদ্ধ।</p>
<blockquote><p>&#8220;না জারের রাশিয়া, না সোভিয়েত রাশিয়া কেউ আমাকে চায় না&#8221;- এমতো অভিমানবাক্যে শেষ হয়েছে তার আত্মজীবনী। সত্যিকারের শিল্পী বা লেখকদের এমনতরোই কপাল। কেউ তাদের চায় না।&#8221;</p></blockquote>
<div><!-- Wordbooker created FB tags --> <iframe src="http://www.facebook.com/plugins/like.php?href=http://www.rashal.com/blog/?p=104&amp;layout=button_count&amp;show_faces=false&amp;width=&amp;action=like&amp;colorscheme=light&amp;font=arial&amp;height=35px" scrolling="no" frameborder="0" style="border:none; overflow:hidden; width:px; height:35px;" allowTransparency="true"></iframe>
<div style="float:right;"><!-- Wordbooker created FB tags --> <a name="fb_share" type="button" share_url="http://www.rashal.com/blog/?p=104"></a></div>
</div>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.rashal.com/blog/?feed=rss2&amp;p=104</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>সৈয়দ মুজতবা আলী : আলোকিত জীবন</title>
		<link>http://www.rashal.com/blog/?p=101</link>
		<comments>http://www.rashal.com/blog/?p=101#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 01 Nov 2009 17:53:59 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিশ্ব সাহিত্য]]></category>
		<category><![CDATA[সৈয়দ মুজতবা আলী]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.rashal.com/blog/?p=101</guid>
		<description><![CDATA[১৯০৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সিলেট জেলার অন্তর্গত (বর্তমানে ভারতের আসামে) করিমগঞ্জ শহরে সৈয়দ মুজতবা আলী জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, চঞ্চল ও পড়ুয়া। ১৯১৯ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিলেট সফরে এলে সৈয়দ মুজতবা আলী কবির বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করেন এবং তার ভক্ত হয়ে যান। সৈয়দ মুজতবা আলী শান্তিনিকেতনে পড়ালেখায় আগ্রহী ছিলেন এবং [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>১৯০৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সিলেট জেলার অন্তর্গত (বর্তমানে ভারতের আসামে) করিমগঞ্জ শহরে সৈয়দ মুজতবা আলী জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, চঞ্চল ও পড়ুয়া। ১৯১৯ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিলেট সফরে এলে সৈয়দ মুজতবা আলী কবির বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করেন এবং তার ভক্ত হয়ে যান। সৈয়দ মুজতবা আলী শান্তিনিকেতনে পড়ালেখায় আগ্রহী ছিলেন এবং এ জন্য তিনি ১৯২১ সালে বিশ্বভারতীতে ভর্তি হন। শান্তিনিকেতনে পাঁচ বছর অধ্যয়নের পর ১৯২৬ সালে তিনি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ওই বছরই তিনি বাংলায় লেটারসহ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। আলীগড়ে আইএ অধ্যয়নকালে তিনি আফগানিস্তানের শিক্ষা বিভাগে চাকরি নিয়ে কাবুল গমন করেন। অত:পর ১৯২৯ সালে তিনি উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য জার্মানিতে গমন করেন। ১৯৪৯ সালে তিনি বগুড়ার আজিজুল হক কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪৪-৪৫ সালে সৈয়দ মুজতবা আলী আনন্দবাজার পত্রিকায় কিছু দিন সাংবাদিকতা করেছেন এবং দেশ পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখতেন। ১৯৪৮ সালে সিলেটের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের আলোচনা সভায় পূর্ববঙ্গের রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি উর্দু ভাষার সপক্ষ শক্তির হাতে নাজেহাল হয়েছিলেন। সৈয়দ মুজতবা আলী বগুড়া আজিজুল হক কলেজের প্রিন্সিপালের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে ভারতে চলে যান এবং কিছু দিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। পরে উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ মালানা আবুল কালাম আজাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইন্ডিয়ান ‘কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন্স’-এর সচিব পদে নিযুক্ত হন। অত:পর তিনি ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’-এর স্টেশন ডাইরেক্টর পদে কিছু দিন চাকরি করেন এবং সেই চাকরিতেও ইস্তফা দেন ১৯৫৬ সালে। অত:পর তিনি বিশ্বভারতীতে কয়েক বছর অধ্যাপনা করেন। ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিতে তিনি ঢাকার পিজি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। (ড. মাহফুজুর রহমান, নানা প্রসঙ্গ নানা ভাবনা, পৃ. ১৮-২৯)।<br />
সৈয়দ মুজতবা আলীর জীবন বিচিত্র অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ। জীবন নামক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন, সেগুলোকেই তিনি সাহিত্যে রূপদান করেন। একাধারে তিনি ভ্রমণ-সাহিত্য রচয়িতা, ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও প্রবন্ধকার। তার ভ্রমণ-সাহিত্য হিসেবে ‘দেশে বিদেশে’, ‘জলে-ডাঙায়’, ‘ভবঘুরে’, ‘মুসাফির’, ‘বিদেশ’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার রচিত উপন্যাসগুলো হচ্ছে ‘অবিশ্বাস্য’, ‘শবনম’, ‘শহর-ইয়ার’ ও ‘তুলনাহীনা’। বিচিত্র রসের নানান গল্প তিনি লিখেছেন। কখনো হাস্যরসের গল্প, কখনো করুণ রসের গল্প, কখনো মধুর রসের মিষ্টি প্রেমের গল্প, আবার কখনো বা ভয়ঙ্কর রসের গল্প তিনি লিখেছেন। সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন লঘু নিবন্ধকার তথা রম্যপ্রবন্ধ রচনায় ছিলেন বিশেষভাবে পারদর্শী। তিনি ভ্রমণ-সাহিত্য রচয়িতা এবং রম্যরসিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত।<br />
সৈয়দ মুজতবা আলী প্রসঙ্গে বিশিষ্ট গবেষক নূরুর রহমান খান তার ‘মুজতবা-সাহিত্যের রূপবৈচিত্র্য ও রচনাশৈলী’ গ্রন্থে বলেছেন ‘হালকা মেজাজে আড্ডার ঢঙে বলে গেলেও মুজতবা-বচন জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, শাস্ত্র চর্চা ও সার্থক বিচার-সমালোচনায় পরিপূর্ণ। তিনি বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন, বারংবার কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তন হয়েছে, বহুজনের সান্নিধ্য লাভ করেছেন পণ্ডিত, গুণী, রাজনীতিক থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত এবং এই সাধারণের প্রতি তার সহানুভূতি সমধিক। এর প্রতিফলন ঘটেছে মুজতবা আলীর প্রতিটি রচনায়। যে অসংখ্য ছোট ছোট রচনা তার খ্যাতির উৎস, সেগুলো ‘রম্যরচনা’ অভিধায় চিহ্নিত। কারণ, এগুলো পাঠকদের চিত্ত-বিনোদন ও অনাবিল আনন্দদানে সমর্থ সফল সৃষ্টি। বর্ণনভঙ্গির গুণে পাঠক অনেক সময় হাসির আবেগ সংবরণ করতে পারেন না বটে, কিন্তু আলী সাহেব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিবিধ ভাষা ও শাস্ত্র থেকে আহৃত মনীষার ফসল এই শ্রেণীর রচনার মাধ্যমে পাঠকদের উপহার দিয়েছেন। তাই এগুলো নিছক রম্যরচনা নয়, সাবলীল ভাষায় প্রকাশিত মনোহর প্রবন্ধও বটে।’ (পূর্বকথা)।<br />
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রম্যরচয়িতা কিংবা লঘু নিবন্ধকার হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (১৮৩৮-১৮৯৪) নাম উল্লেখ করা যায়। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘লোকরহস্য’, ‘কমলাকান্তের দপ্তর’, ‘মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত’ ইত্যাদিতে রম্যরসের পরিচয় পাওয়া যায়। প্রমথ চৌধুরীর (১৮৬৮-১৯৪৬) প্রবন্ধেও বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরসের পরিচয় পাওয়া যায়। সৈয়দ মুজতবা আলী তার নানা লঘু নিবন্ধে রম্যরস ফুটিয়ে তুলেছেন। যেমন, তার রচিত ‘হিডজিভাই পি মরিস’ লেখাটির কথাই বলা যাক। ‘সেন্টিমেন্টাল এবং আদর্শবাদী’ অধ্যাপক মরিস ফরাসি পড়াতেন। তার ক্লাসে প্রবীণ অধ্যাপকগণও উপস্খিত থাকতেন। একদিন “ফরাসি ব্যাকরণের কী একটা কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফেলেছেন অধ্যক্ষ বিধুশেখর। মরিস সাহেব বললেন, ‘চমৎকার। শাসট্টি মশায়। সট্যি, আপনি একটা অস্টো ঘুঘু।’<br />
শাস্ত্রী মশাইয়ের তো চক্ষুস্খির। …শুধালেন, ‘মরিস, এটা তোমাকে শেখালে কে?’<br />
নিরীহ মরিস… বললেন, ডিনডা (দিনদা, দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর)। উনি বলেছেন ওটার অর্ট ‘অসাডারণ বুডডিমান’। টবে কি ওটা ভুল।” অধ্যাপক মরিসের বাংলা ভাষা জ্ঞান এবং অভিনব বাংলা উচ্চারণ সত্যি হাসির খোরাক জোগায়।<br />
সৈয়দ মুজতবা আলীর এমন আরেকটি লেখা ‘অনুকরণ না হনুকরণ?’ ‘অক্ষম অনুকারী ও পেশাদার সমালোচকদের’ প্রসঙ্গে তিনি এ প্রবন্ধে ব্যঙ্গ করেছেন। বিষয়বস্তু ও ভাষা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে অন্যকে যে যথাযথভাবে অনুকরণও করা যায় না তা তিনি এ প্রবন্ধে তুলে ধরেছেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তথাকথিত সমালোচকদের ব্যঙ্গ করেই প্রবন্ধটি রচিত। তথাকথিত সমালোচকরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সাহিত্যের সমালোচনা করেন। ফলে কমজোর লেখকও বড় লেখক হয়ে যান। এ শ্রেণীর সমালোচকরা সাধারণত ‘সর্বকর্মে নামঞ্জুর হয়ে’ অর্থ উপার্জনের প্রয়োজনে সমালোচকের ভূমিকা পালন করেন। একটি প্রচলিত চুটকির মাধ্যমে সৈয়দ মুজতবা আলী এ জাতীয় সমালোচকদের ব্যঙ্গ করেছেন। চুটকিটি হচ্ছে এক পাগল নিজেকে মহারানী ভিক্টোরিয়ার স্বামী ভাবতেন। “পাগলা সেরে গেছে এই রিপোর্ট পাওয়ার পর পাগলা-গারদের বড় ডাক্তার তাকে ডেকে পাঠিয়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে শুধালেন, ‘তা তুমি খালাস হওয়ার পর করবে কী?’ সুস্খ লোকের মতো বললেন, ‘মামার বড় ব্যবসা আছে, সেখানে ঢুকে যাব।’ ‘সেটা যদি না হয়?’ চিন্তা করে বললেন, ‘তা হলে আমার বিএ ডিগ্রি তো রয়েছেই, টিউশনি নেব।’ তারপর এক গাল হেসে বললেন, ‘এত ভাবছেন কেন, ডাক্তার? কিছু না হলে যেকোনো সময়ই তো আবার মহারানীর স্বামী হয়ে যেতে পারব।” এই চুটকির মাধ্যমে সৈয়দ মুজতবা আলী বুঝিয়েছেন, পাগল হওয়ার মতো তথাকথিত সমালোচকও সব সময় হওয়া যায়।<br />
‘ইঙ্গ-ভারতীয় কথোপকথন’ প্রবন্ধে সৈয়দ মুজতবা আলীর ব্রিটিশ-বৈরিতা প্রকাশিত হয়েছে। ইংরেজদের যাবতীয় আচার-আচরণ অনুকরণ করা যে ভারতীয়দের জন্য স্বাস্খ্যপ্রদ নয় তা তিনি ব্যক্ত করেছেন। তৎকালীন ভারতে পর্দা প্রথা সম্পর্কে ইংরেজ সাহেবের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন লেখক চমৎকার রসিকতার মাধ্যমে। লেখকের ভাষায় “১৭৫৭ সালে তোমাদের সাথে পিরিতি সায়রে সিনান করিতে গিয়া শুধু যে আমাদের সকলি গরল ভেল তাহা নয় স্বরাজ গামচাখানা হারাইয়া ফেলিয়া দুইশত শীত বৎসর ধরিয়া আকণ্ঠ দৈন্যদুর্দশা পঙ্কে নিমগ্ন ডাঙ্গায় উঠিবার উপায় নাই। পুরুষদের তো এই অবস্খা, তাই মেয়েরা অন্দরমহলে তোমাদের ক্ষৎময় করিয়া বসিয়া আছেন।” সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখায় এভাবেই দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে। দেশ-বিদেশের নানান গল্পকথা ব্যবহার করে লেখক তার বক্তব্যকে শাণিত করেছেন। তিনি একটি ইরানি উপকথা নিয়ে লিখেছিলেন ‘বিষের বিষ’ গল্পটি। গল্পটির সারাংশ হচ্ছে এক দজ্জাল স্ত্রীকে শাস্তি দেয়ার জন্য একটি গর্তে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই গর্তের কাল-নাগিনী পর্যন্ত সেই দজ্জাল মহিলাকে দংশন করেনি নিজের প্রাণের মায়ার কারণে। গল্পের এই সারাংশটি লেখক ব্যবহার করেছেন ভিন্ন প্রেক্ষিতে সংবাদপত্রের নিবন্ধে। সৈয়দ মুজতবা আলী লিখেছেন<br />
“কাগজে পড়লুম কোন এক প্রদেশে মন্ত্রীদের জ্যান্ত সাপের মালা পরিয়ে অভ্যর্থনা করা হয়েছিল। সাপগুলো যে কেন ওদের ছোবল মারেনি, আজ ইরানি গল্পের স্মরণে কথাটা ফর্সা হয়ে গেল।<br />
এবং বুঝতে পারলুম, ইরানি গল্পটা গল্প নয়, সত্য ঘটনা।”<br />
মূলত সৈয়দ মুজতবা আলীর অসংখ্য লেখায় রম্যরস ছড়িয়ে আছে। রম্যরচনার পোশাকে তিনি স্বদেশ, সমাজ, মাতৃভাষা, শিক্ষা, রাজনীতি ইত্যাদি নানা বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তার মতো প্রতিভাবান লেখক বাংলা সাহিত্যে বিরল। তার সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
<div><!-- Wordbooker created FB tags --> <iframe src="http://www.facebook.com/plugins/like.php?href=http://www.rashal.com/blog/?p=101&amp;layout=button_count&amp;show_faces=false&amp;width=&amp;action=like&amp;colorscheme=light&amp;font=arial&amp;height=35px" scrolling="no" frameborder="0" style="border:none; overflow:hidden; width:px; height:35px;" allowTransparency="true"></iframe>
<div style="float:right;"><!-- Wordbooker created FB tags --> <a name="fb_share" type="button" share_url="http://www.rashal.com/blog/?p=101"></a></div>
</div>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.rashal.com/blog/?feed=rss2&amp;p=101</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>
